জীবনী

এই বিস্তৃত তথ্যচিত্রের মাধ্যমে আমিরুল ইসলাম খান আলীমের
জীবন কাহিনী উপভোগ করুন

১২ মি+

ভিউ

০৬.০৫ মিনিট

সময়কাল

২০২৬

মুক্তি পেয়েছে

প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষা

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার নিভৃত পল্লী তামাই গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঠিক প্রাক্কালে, ১৯৭০ সালের ১লা ডিসেম্বর একটি সাধারণ গ্রামীণ পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনদরদী প্রতিনিধি, আর মা ছিলেন সহজ-সরল ও স্নেহশীলা গৃহিণী। সাধারণ জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই তিনি শিখেছেন সততা, পরিশ্রম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

১৯৮৬ সালে তিনি আমায় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তাঁর মধ্যে ছিল স্বপ্ন দেখার সাহস ও এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় মানসিকতা। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করেই তিনি ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী তিতুমীর কলেজে।

উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে তিনি এ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষা তাঁর চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিপক্ব করে তোলে এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

রাজনীতিতে প্রবেশ

তারুণ্যের দীপ্ত শপথ নিয়েই তিতুমীর কলেজ থেকে শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক জীবন। সেখান থেকেই রাজনীতির প্রথম পাঠ, সেখান থেকেই শুরু হয় আসল লড়াই। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন কাঁধে।

সময়টা ছিল নব্বইয়ের দশক—স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তখন সারাদেশ উত্তাল। রাজপথে ঝাঁঝরা হচ্ছে আন্দোলনের পথ, রক্তে রাঙা হচ্ছে রাজনীতি; কিন্তু আলিম থামেননি। মিছিলের একেবারে সামনের কাতারে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি—ভয়কে জয় করে।

এই অকুতোভয় সাহস ও আপসহীন নেতৃত্ব নজর এড়ায়নি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। সেখান থেকেই ইতিহাস কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প লেখা শুরু করে।

মেধা ও নেতৃত্বের অনন্য সমন্বয়ে দ্রুতই তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ধাপে ধাপে সংগ্রাম আর ত্যাগের পথ বেয়ে ২০১০ সালে দায়িত্ব নেন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে। প্রতিটি পদক্ষেপেই তিনি প্রমাণ করেন তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীপ্রিয়তা ও নেতৃত্বগুণ।

দেশনায়ক তারেক রহমানের আস্থায় তিনি নির্বাচিত হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা কেবল নিজের যোগ্যতা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার বলেই জায়গা করে নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে।

পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিরাজগঞ্জ জেলা সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি দায়িত্বেই তিনি প্রমাণ করেছেন—রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতার নয়, মানুষের জন্য সংগ্রামের নাম।

দৃষ্টি ও দর্শন

শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন গ্রামের মানুষের অভাব আর বঞ্চনার বাস্তব চিত্র। কাঁচা মাটির পথ, খেটে খাওয়া মানুষের ক্লান্ত মুখ আর নিঃশব্দ চোখের জল তাঁকে শিখিয়েছিল এক গভীর সত্য—মানুষের জন্য বাঁচাই হলো জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

এই উপলব্ধি আর অঙ্গীকার নিয়েই তিনি রাজনীতির পথে পা বাড়ান। একটি পথচলা, যা আজও অব্যাহত—অটল ও আপসহীন।

তিনি এমপি কিংবা মন্ত্রী নন; তবুও শুধুমাত্র দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও নেতা হিসেবে সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন এবং আছেন। ক্ষমতার মোহ নয়, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই তাঁর কাছে রাজনীতির সর্বোচ্চ অর্জন।

তাঁর স্বপ্ন বিশাল, কিন্তু শিকড়ে প্রোথিত। তিনি চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি—বেলকুচি, এনায়েতপুর ও চৌহালীকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক জনপদে রূপান্তর করতে।

দ্রুত তথ্য

দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

নির্বাচনী এলাকা

বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর — সিরাজগঞ্জ-৫

শিক্ষা

সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর

মূল লক্ষ্য

আমাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সমাজের টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করি:

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ

জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা

পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ জোরদার করে সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠন।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp